উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায়
উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায় সম্পর্কে জানতে চান । উচ্চ
রক্তচাপ এমন একটি সমস্যা যা সময় মতো যদি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা করা না হয়।
তাহলে হার্ট অ্যাটাক, স্টক, এর মত মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি হতে
পারে। তাই এ আর্টিকেলে জানব উচ্চ রক্তচাপ কি, লক্ষণ, কারণ এবং কিভাবে নিয়ন্ত্রণ
করা যায় সেই সম্পর্কে।
যেহেতু উচ্চ রক্তচাপ একটা কমন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ
মনিটর করা উচিত। এবং স্বাস্থ্যকর জীবন গড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। আর এ
সম্পর্কে জানার জন্য নিচের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
সূচিপত্রঃ উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো
- উচ্চ রক্তচাপ হাইপ্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায়
- উচ্চ রক্তচাপ কি এবং এর কারণ সম্পর্কে
- উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ ও ঝুঁকির কারণ সমূহ
- নিয়মিত সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপার নিয়ম
- হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে যা করণীয়
- উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য খাদ্য তালিকা
- হাইপ্রেসার নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য ঘরোয়া প্রতিকার সমূহ
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার সহজ পদ্ধতি
- হাইপ্রেসারের খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন পদ্ধতি
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে জীবন যাপন পদ্ধতি পরিবর্তন
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যে সময় ডাক্তারের পরামর্শ জরুরী
- শেষ কথা
উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায়
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রথমে নজর দিতে হবে বা খেয়াল রাখতে হবে জীবন
যাপনের অভ্যাসের উপর। উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায়
গুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য সম্মত খাবার খাওয়া, শাকসবজি, ফলমূল খাওয়া পরিমাণ
বাড়ানো, নিয়মিত ব্যায়াম করা, মানসিক চাপ কমানো চেষ্টা করা
এসব রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সাহায্য করে। অনেকের
ধারণা যে নির্দিষ্ট খাবার খেলে এবং পানিও খেলে হাই প্রেসার কমে যায়।
বাস্তববে এটা কোন এক খাবারের উপর নির্ভরশীল নয়। বরং এটা প্রতিদিনের জীবন
যাপন পদ্ধতির উপরে নির্ভর করে থাকে। তবে প্রতিদিনের জীবন যাপন একটু একটু করে
পরিবর্তন করে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এটা যে শুধু খাবার বা ঘরোয়া
উপাদানের উপর নির্ভর করবে এমনটা নয়। তবে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার কমানোর
প্রাকৃতিক উপায় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো
খাবারে কাঁচা লবণ কামানো
খাবারের লবণের পরিমাণ কমিয়ে ফেলা উচিত। আর কাঁচা লবণ তো না খাওয়াই ভালো। খাদ্য
তালিকায় সোডিয়াম বা লবণের পরিমাণ কমানো হৃদরোগের উন্নতি। এবং উচ্চ রক্তচাপ
প্রায় ৫ থেকে ৬ মিমি.এইচজি কমাতে পারে। তাই কাঁচা লবণ এড়িয়ে চলা উচিত এবং
খাবারেও সোডিয়ামের পরিমাণ কম রাখা উত্তম।
পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার
সোডিয়ামের প্রভাব কম রাখতে পটাশিয়াম রক্তচাপ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখে। এবং হাইপ্রেশার নিয়ন্ত্রণের সহায়তা করে। তবে চিকিৎসকের কোন বিধি-নিষেধ না
থাকলে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত। যেমন-কলা, ডাব ইত্যাদিতে
পটাশিয়াম ভালো পরিমাণে থাকে তবে যাদের কিডনির রোগ থাকে। তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ
অনুযায়ী পটাশিয়াম খাবার খাওয়া উচিত।
ফলমূল ও শাকসবজি
স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলমূল ও শাকসবজি এবং স্বাস্থ্যকর
খাবার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে কম চর্বিযুক্ত, দুগ্ধ জাত খাবার,
গোটা শসা, ফলমূল, শাকসবজি ইত্যাদি পুষ্টিকর খাবার। সাধারণত রক্তচাপ ১১ মিমি এইচজি
পর্যন্ত কমাতে সাহায্য করে থাকে। তাই আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার
গ্রহণ করা উচিত।
প্রতিনিয়ত ব্যায়াম করুন
শারীরিক ব্যায়াম করা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখে। যদি আধা ঘন্টা নিয়মিত ব্যায়াম করা যায়। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে ৫ থেকে ৮
মিমি.এইচজি উচ্চ রক্তচাপ কমে যেতে পারে। তবে ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা উচিত। কারণ
ব্যায়াম বন্ধ করলে আবার রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। তবে আপনার রক্তচাপ বেড়ে
থাকে তবে তাহলে ব্যায়ামের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
আরবিক ব্যায়াম যেমন -হাঁটা, জগিং, সাইকেল চালানো এবং নাচ।
ওজন নিয়ন্ত্রণ করা
অতিরিক্ত ওজন থাকা শরিরে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নিয়ন্ত্রণে রাখার
জন্য নিজের উচ্চতা ও শারীরিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রাখা উত্তম। তবে না খেয়ে
ওজন কমানো ঠিক নয় বরং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ।তা নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম
সঠিকভাবে পরিচালনা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক চাপ কমানো
অতিরিক্ত মানসিক চাপ স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই প্রতিনিয়ত
নিজের জন্য কিছু সময়ই রাখা এবং মানসিক চাপ কমানোর জন্য স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি পালন
করা উচিত। প্রতিনিয়ত হাটাহাটি করা, বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দ অনুযায়ী কাজ করা,
পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটানো, পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম নেওয়া,
শ্বাস-প্রশ্বাসর ব্যায়াম করা ইত্যাদি মানসিক চাপ কমানোর জন্য মোকাবেলা করতে
পারে।
পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম
পর্যাপ্ত ও পরিমিত ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।
প্রতিনিয়ত ৭ থেকে ৯ ঘন্টা ঘুমানোর লক্ষ্য রাখুন।
- প্রতিনিয়ত ঘুমের সময়সূচী মেনে চলুন।
- ঘুমানোর ঘর অন্ধকার, শান্ত এবং ঠান্ডা রাখুন।
- ঘুমানোর পূর্বে ভারি কোন খাবার, ক্যাফেইন যুক্ত পানীয় পরিহার করুন।
- দিনে ৩০ মিনিটের মধ্যে ঘুম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
ধূমপান ও ক্যাফেইন কমানো
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি পদার্থ। যাদের উচ্চ রক্তচাপ
থাকে। তাদের ধূমপান এড়িয়ে চলা উচিত। চা বা কফিতে ক্যাফেইন থাকে, যা রক্তচাপ
বাড়াতে পারে। তাই ক্যাফেইন গ্রহণ থেকে দূরে থাকা ভালো।
উচ্চ রক্তচাপ কি এবং এর কারণ সম্পর্কে
রক্ত যখন ধমনীর দেয়ালে উপর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ প্রয়োগ করে থাকে, সে
অবস্থাকেই উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। স্বাভাবিক রক্তচাপ হচ্ছে ১২০/ ৮০ এম এম এইচ জি।
তবে বারবার যদি ১৪০ / ৯০ এম এম এইচডি বা তার বেশি দেখায় তখন সেটা ব্লাড প্রেসার
হিসাবে ধরা হয়ে থাকে। সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যেমন-
- প্রাইমারি হাইপারটেনশন- এটি মূলত বয়স এবং জীবনযাত্রার ওপর নির্ভরশীল।
- সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন- এটা ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা অন্য কোন রোগের কারণে হয়ে থাকে।
- এছাড়াও কয়েক ধরনের হাইপারটেনশন দেখা যায় যেমন-
- হোয়াইট কোট হাইপারটেনশন- রোগী বাড়িতে টেস্ট করলেন নরমাল অথচ হাসপাতালে বেশি দেখায়।
- মাস্কড হাইপারটেনশন-এখানে হাসপাতালে ঠিক থাকে বাড়িতে বেশি হয়।
- সাসটেইনড হাইপার টেনশন-যেখানেই রোগী থাকুক ব্লাড প্রেসার বেশি।
- নকটারনাল হাইপার টেনশন -রাতে ঘুমানোর সময় ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়।
উচ্চ রক্তচাপ এর কারণঃ
- ধূমপান করার জন্য।
- ওজন নিয়ন্ত্রণের না রাখার জন্য।
- খাদ্য তালিকায় লবণ ও তেল যুক্ত খাবার খাওয়া।
- অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন করার জন্য।
- বয়স বৃদ্ধির কারণে।
- পারিবারিক ইতিহাস সূত্রে বা বংশগত কারণে।
- নিদ্রাহীনতার কারণে।
- মানসিক অস্থিরতার কারণে।
- শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের জন্য।
উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ ও ঝুঁকির কারণসমূহ
উচ্চ রক্তচাপ যা হাইপারটেনশন নামে পরিচিত। এটি আপনার রক্তনালীতে রক্তের চাপ যখন
বেশি হয়ে যায়। আর এ চাপ হৃদপিন্ডের উপর যখন অধিক সৃষ্টি করে এবং
রক্তনালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে। তখনই উচ্চ রক্তচাপের কিছু লক্ষণ দেখা যায়
তা দেওয়া হল-
- মাথা ব্যথা করা।
- বুক ব্যথা বা অস্বস্তি।
- মাথা ঘোরা।
- শ্বাসকষ্ট হওয়া।
- দৃষ্টিশক্তি সমস্যা হওয়া।
- এবং অনিয়মিত স্পন্দন বা রেসিং হওয়া।
অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় ঝুঁকির কারণও হতে পারে। যা শরীরের মারাত্মক
ক্ষতি করে থাকে। আর এই প্রধান ঝুঁকি গুলো হল-
- হার্ট অ্যাটাক, স্টক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- চোখের দৃষ্টিশক্তি সমস্যা হতে পারে বা দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে।
- অতিরিক্ত রক্তচাপের কারণে কিডনির ফিল্টারিং সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- এনইউরিজন বা রক্তনালীর দেওয়াল দুর্বল হয়ে ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- সাধারণ জীবনমানের অবনতি হওয়া সম্ভাবনা থাকে।
নিয়মিত সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপার নিয়ম
উচ্চ রক্তচাপ এর রোগীদের নিয়মিত রক্তচাপ মনিটর করতে হবে। শারীরিক অসুস্থতার জন্য
দ্রুত রক্তচাপ মাপতে হবে। তবে মানসিক সুস্থতার জন্য শান্তিময় পরিবেশ একটা
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এক্ষেত্রে যাদের পরিবারের উচ্চ রক্তচাপের রোগী রয়েছে। তারা ঠিকমতো মেডিসিন খায়
কিনা, চলে কিনা খেয়াল রাখা উত্তম।
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে যা করণীয়
- দুশ্চিন্তা কমানোর জন্য ডিপ ব্রেথ নেওয়া উচিত।
- স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা উচিত ঘাবড়ানো উচিত না।
- কিছু সময় শুয়ে থাকা ভালো।
- এই সময়ের সাথে সাথে প্রেসারের ওষুধ খেয়ে নেবেন।
- সাময়িকভাবে মাথায় পানি বা বরফ দিয়ে দিন।
- উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে গেলে বিশ্রাম নেওয়া উচিত।
- উচ্চমাত্রায় লবণ আছে, এরকম স্ন্যাকস থেকে দূরে থাকা ভালো।
- যদি ব্লাড প্রেসার কন্ট্রোল না হয় ,তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য খাদ্য তালিকা
সবুজ শাক
সবুজ শাক সবজিতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
এছাড়া শাকসবজি সোডিয়াম দূর করে শরীরের প্রয়োজনীয় ভারসাম্য বজায় রাখে।
আরো পড়ুনঃ পাকা বেল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
এজন্য আপনি আপনার খাদ্য তালিকায় প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাক-সবজি অন্তর্ভুক্ত রাখতে
পারেন। যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করবে।
বিট
এটি রোগীদের জন্য একটি শক্তিশালী খাবার এবং এতে নাইট্রেট থাকে। যার রক্ত সঞ্চালন
করার জন্য সাহায্য করে থাকে। মূলত সালাত বা রস হিসাব খাদ্য তালিকার অংশ হিসেবে
রাখতে পারেন।
ওটস
ওটস আপনার সকালের নাস্তা হিসেবে রাখেন। যা শরীর এবং মনকে সুস্থ রাখবেন। উচ্চ
রক্তচাপের জন্য ওটস এর প্রয়োজনীয় ফাইবার,যা কোলেস্টেরলের মাত্রা
কমিয়ে থাকে।
কলা
কলা পটাশিয়াম এর জন্য সমৃদ্ধ। এটা সোডিয়াম এর প্রভাব, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখার
চেষ্টা করে। তাই প্রতিদিন যদি কলা খাওয়া যায়। তবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের থাকতে
পারে।
রসুন
রসুন স্বাস্থ্যের জন্য একটি প্রশংসনীয় অংশ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এতে আ্যলিসিন
নামক যৌগ থাকে, যা শরীরের রক্তসংবহনতন্ত্রের রক্ত প্রবাহ উন্নত করে। তাই তাজা
খাদ্য তালিকায় তাজা রসুন অন্তর্ভুক্ত করা উত্তম।
চর্বিযুক্ত মাছ
চর্বিযুক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। যেমন-
স্যামন,ম্যাকেরেল ইত্যাদি যা রক্তচাপ সাহায্য করে।
বাদাম এবং বীজ
বাদাম এবং বীজে ফাইবার, চর্বি, ম্যাগনেসিয়াম প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
এজাতীয় পুষ্টি উপাদান উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে থাকে।
অ্যাভোকাডোস
অ্যাভোকাডাস সোডিয়াম কমাতে সাহায্য করে এবং পটাশিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকে। এটি
হৃদরোগের জন্য খুব ভালো কাজ করে থাকে। যে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট
ভূমিকা রাখে।
হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য ঘরোয়া প্রতিকার সমূহ
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে কমানোর জন্য কিছু প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহার করা যেতে
পারে। যা নিচে আলোচনা করা হল-
- গভীরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া, যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে থাকে।
- লেবুর রস এবং কুসুম গরম পানি মেসিয়ে খাওয়া হলে রক্তচাপ কিছুটা কমে যায়।
- কাঁচা রসুন এ থাকা আ্যলিসিন রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে থাকে।
- পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। যা ক্ষতিকর সোডিয়ামের প্রভাব কমানোর পর রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা যায়।
- প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। যেন শরীরে পানির ঘাটতি না হয় ।এবং রক্ত ঘন না হয় রক্ত ঘন হলে চাপ বেড়ে যায়। ফলে রক্তচাপ ব্যাঘাত ঘাটায়। তাই প্রচুর পরিমাণে পানি খেয়ে রক্ত স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করতে হবে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার সহজ পদ্ধতি
যদি হঠাৎ আপনার রক্তচাপ বেড়ে যায় তাহলে অবশ্যই নিজের পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা
করবেন
- আপনার মাথা,ও মুখ ঠান্ডা পানি দিয়ে ঝাপটা দিতে হবে।
- কয়েক মিনিটের মধ্যে গভীরভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস আর অনুসরণ করতে হবে ।
- লবণ বা মসলাদার যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
- লবণ বা চিনি না মিশিয়ে লেবু পানি পান করতে হবে।
- তুলসির পাতা বা এক কুয়া রসুন চিবিয়ে খেতে হবে।
- ডালিমের রস ও ডাবের পানি পান করতে হবে।
- মূলত এইসব পদক্ষেপ অনুসরণ করে। যদি আপনার রক্তচাপ বেশি থাকে। তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত।
হাই প্রেসারে খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন পদ্ধতি
দীর্ঘমেয়াদি হাইপ্রেসার নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত কমানোর জন্য সঠিকভাবে খাদ্য অভ্যাস
পালন করা অপরিহার্য। নিচে কিছু পরিবর্তন-
- কাঁচা লবণ বা লবণ জাতীয় খাবার এভোয়েড করুন।
- সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূল খাওয়ার তালিকায় বেশি বেশি যুক্ত করতে হবে।
- চর্বিযুক্ত খাবার বা মসলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
- কফি ও ক্যাফেইন যুক্ত খাবার রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে তার জন্য এড়িয়ে চলা উত্তম।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জীবন যাপন পদ্ধতির পরিবর্তন
- অভ্যাস পরির্বতন করার পাশাপাশি জীবনযাত্রার পরিবর্তন হওয়া উত্তম।
- প্রতিদিন অন্তত ত্রিশ মিনিট ব্যায়াম করুন, যা চাপ কমাতে সাহায্য করে থাকে
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এটা মূলত জীবন রক্তচাপ কমাতে সহযোগিতা করে থাকবে।
- রক্তচাপ কমাতে ধূমপান কোন জাতীয় খাদ্য এড়িয়ে চলতে হবে।
- মানুষের চাপ কম থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই রক্তচাপ কমতে থাকে।
- যতদিন অন্তত সব থেকে আট ঘন্টা ঘুম সহযোগিতা করবে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যে সময় ডাক্তারের পরামর্শ জরুরী
যেসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। তা হচ্ছে-
- ঘন ঘন মাথা ব্যথা বা ঘোরা।
- যদি বুক ধরফর করে।
- যদি চোখে ঝাপসা দেখা যায়।
- শ্বাস নিতে যদি কষ্ট হয়।
- যদি হঠাৎ দুর্বলতা বা অবসন্নতা দেখা দেয়।
শেষ কথা
পরিবারের যদি কারো উচ্চ রক্তচাপ থাকে। তাহলে নিয়মিত চেকআপ করা উত্তম। তবে ভয়ের
কিছু নেই, সঠিকভাবে খাবার খাওয়া, জীবন যাপন সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। এবং
ডাক্তারের পরামর্শ মাফিক চলাফেরা করা যাই। তাহলেই আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন। তবে
ছোট ছোট অভ্যাসগুলোর পরিবর্তন দিয়ে আপনার জীবনকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। তবে যদি
আপনি সচেতন হন ।তবে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। তবে
যদি অবহেলা করেন, তাহলে হার্টঅ্যাটাক এর মত বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
আমার মনে হয়, জীবন যাপনের কিছু স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন আনলেই উচ্চ রক্তচাপ থেকে
রক্ষা পাওয়া যাই। হঠাৎ করে রক্তচাপ যদি বেড়ে যায়। তাহলে অবশ্যই
ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এতক্ষণ ধৈর্য সহকারে আমার আর্টিকেলটি পড়ার জন্য
আপনাকে ধন্যবাদ। এরকম তথ্যভিত্তিক আর্টিকেল পাওয়ার জন্য আমার ওয়েবসাইটটি ভিজিট
করুন।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url