কম টাকায় আম ব্যবসা শুরু করার উপায়
কম টাকায় আপনি কিভাবে আমের ব্যবসা শুরু করবেন তা নিয়ে ভাবছেন? তাহলে এই
আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। আসুন, এই আর্টিকেলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কম
টাকায় কিভাবে আমের ব্যবসা শুরু করা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
আম ব্যবসা শুরু করার উপায় হচ্ছে সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা, মূলধন, মার্কেটিং, আয়-ব্যয় ও ব্যবসার সফলতা ইত্যাদির মাধ্যমে। কম টাকায় আম ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হল।
সূচিপত্রঃ কম টাকায় আমের ব্যবসা শুরু করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো
- কম টাকায় আমের ব্যবসা শুরু করার উপায়
- আম ব্যবসা করার উপযুক্ত পরিকল্পনা
- আমরা ব্যবসায় কত টাকা বিনিয়োগ করা লাগে
- উপযুক্তভাবে আম সংগ্রহ করার উপায়
- অফলাইন বা অনলাইনে আম বিক্রি করার কৌশল
- আম পরিবহন ও সংরক্ষণের উপায়
- কিভাবে কাস্টমার বা ক্রেতা বাড়ানো যায়
- ব্যবসায় আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ
- নতুন ব্যবসায়ী যেসব ভুল ত্রুটি হয়
- আম ব্যবসা সফল হওয়ার গোপন টিপস
- ব্যতিক্রমী কিছু চিন্তাভাবনা
- লেখক এর মন্তব্য
কম টাকায় আমের ব্যবসা শুরু করার উপায়
আম ব্যবসা হচ্ছে একটি মৌসুম ফলের ব্যবসা। একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই ব্যবসা কার্যক্রম শেষ হয়ে থাকে। তাই কম টাকায় আম ব্যবসা করার উপায় এ বিষয়ের প্রতি মানুষ বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এই ব্যবসা করতে অনেক মূলধনের প্রয়োজন। বাস্তবে কিন্তু তা না, অল্প পরিসরে শুরু করলে মোটামুটি ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা হলেই শুরু করা যায়। এক্ষেত্রে আপনার বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশের কাজ হল, কিভাবে আম সংরক্ষণ করবেন, কিভাবে আম প্যাকেজিং বা পরিবহন করবেন, তা নিয়ে পরিকল্পনা করা।
এক্ষেত্রে আপনি যদি নিজে আম সংগ্রহ করতে পারেন বা বিশ্বাস তো কোন মাধ্যম থেকে আম সংগ্রহ করতে পারেন। এতে ক্ষতির সম্ভাবনা খুব কম থাকে। এ ব্যবসাটা যেমন লাভজনক ব্যবসা তেমনি এখানে পুঁজি হারানোরও ভয় আছে। যেহেতু এটি কাঁচামাল। সেহেতু সবসময় সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। তাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হল অর্ডার নিয়ে, সরাসরি নিজে বা বিশ্বাস্ত মাধ্যম থেকে আম নিয়ে ভালো মানের আম ডেলিভারি করা উত্তম।
এতে গ্রাহকরা বারবার অর্ডার দিতে থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এ
ব্যবসায়ী তেমন কোন মূলধনের প্রয়োজন হয় না। যেহেতু আম একটা সুস্বাদু ফল, তাই এর
চাহিদা ও অনেক। আর গরমের সময় যেহেতু আম ফল পাওয়া যায়, সেহেতু মানুষ প্রচুর
পরিমাণে আম কিনে থাকে। তাই এই মৌসুমে ব্যবসা করে মানুষ ভালো আয় করার সুযোগ ও
পায়। চাইলেই নতুন উদ্যোক্তারা এ ব্যবসা করতে পারবে। কারণ বর্তমান যুগ আস্তে
আস্তে অনলাইন নির্ভর হয়ে যাচ্ছে। এতে করে ব্যবসায়িক পদ্ধতিটাও অনেক সহজ হয়ে
যাচ্ছে।
আম ব্যবসা করার উপযুক্ত পরিকল্পনা
যে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।
পরিকল্পনা ছাড়া ব্যবসা শুরু করলে অনেক সময় ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। এর জন্য
আপনাকে সঠিক পরিকল্পনা ও বাজার চাহিদা সম্পর্কে একটু সচেতন হতে হবে। তাহলে খুব
সহজেই সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আম ব্যবসা শুরু করার আগে আপনাকে কিছু বিষয়
সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নিতে হবে। সেগুলো হল-
- প্রথমে ছোট পরিসরে আম ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া ভালো।
- কোন বাগান মালিকের মাধ্যমে আম সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করতে হবে।
- পাইকারি আম কিনে খুচরা বিক্রি করার সম্পর্কেও জ্ঞান থাকতে হবে।
- অনলাইনের মাধ্যমে আম বিক্রি করার একটা পরিকল্পনা করতে হবে।
- আম ব্যবসায় কত টাকা বিনিয়োগ করা লাগবে সে সম্পর্কে একটা ধারণা থাকতে হবে।
- শুধু আম কিনলেই হবে না কোন জাতের আম কোন এলাকায় বেশি চাহিদা বেশি সে সম্পর্কেও জানতে হবে।
এছাড়া কোন কাজ পরিকল্পনা ছাড়া করলে ফল ভালো হতে পারে না। তাই উপযুক্ত
পরিকল্পনায় হচ্ছে ব্যবসার সফলতার চাবিকাঠি। এক্ষেত্রে কম টাকায় আম ব্যবসা শুরু
করার উপায় হচ্ছে কার্যকরী মাধ্যম।
আমরা ব্যবসায় কত টাকা বিনিয়োগ করা লাগে
যেকোনো ব্যবসায় মূলধন বা বিনিয়োগ ছাড়া ব্যবসা করা অসম্ভব একটা বিষয়। তবু বর্তমান যুগে বিনিয়োগ ছাড়াও ব্যবসা করা সম্ভব। আম ব্যবসা হচ্ছে এই ধরনের একটি ব্যবসা। আপনি যদি ভাবেন যে, আমি বিনিয়োগ ছাড়াই আমের ব্যবসা শুরু করব সেটাতেও সম্ভব। মূলত এটা সম্পূর্ণ সম্ভব হবে অনলাইন প্লাটফর্ম এর মাধ্যমে। তথ্য ও প্রযুক্তি এখন অনেক উন্নত।
আরো পড়ুনঃ বিশ হাজার টাকার ব্যবসার আইডিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
তাই আমের ব্যবসার জন্য একটা পেজ খুলে, সেখান থেকে অর্ডার নিলে, কোন বিনিয়োগ ছাড়াই আম ডেলিভারি করতে পারবেন। এছাড়াও স্বল্প পরিসরে বিনিয়োগ করায় বুদ্ধিমানের কাজ। সরাসরি বাগানের মালিকের নিকট আম ক্রয় করে, তা খুচরা বা পাইকারি বিক্রি করে আয় করতে পারেন। এছাড়াও অনলাইন এর মাধ্যমে বিক্রি করতে পারেন। অনেক লাভজনক ব্যবসা। তবে আপনি তিন ভাবে বিনিয়োগ করতে পারেন। যেমন-
- ছোট পরিসরে অর্থাৎ ১৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে। যারা অনলাইন নির্ভর করে ব্যবসা শুরু করতে চাই তাদের জন্য এইটা একটা উত্তম সিদ্ধান্ত।
- মাঝারি পরিসরে অর্থাৎ যারা এক থেকে দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গা থেকে আম সংগ্রহ করে বিক্রয় করতে পারেন। আমার আড়তে রেখে বাজারজাত করতে পারেন।
- বড় পরিসরে অর্থাৎ ৩ লাখ থেকে দশ লাখ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারেন। যারা সরাসরি বাগান মালিকের কাছ থেকে আম ইজারা নিতে পারেন এবং বিভিন্নভাবে বাজারজাত করতে পারেন।
- এটাও মনে রাখতে হবে যেহেতু এটা কাঁচামাল। সেহেতু সবদিক চিন্তা ভাবনা করে কম টাকায় আম ব্যবসা শুরু করার উপায় হচ্ছে মূল মাধ্যম।
উপযুক্তভাবে আম সংগ্রহ করার উপায়
আম ব্যবসার প্রাথমিক ধাপ হচ্ছে, আপনি কোথা থেকে আম সংগ্রহ করবেন। যদি আম সংগ্রহ ভালো ভাবে করতে পারেন। তবে ব্যবসায় অনেক লাভ করা সম্ভব হয়ে থাকে। তাই আম সংগ্রহ করা হচ্ছে একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সরাসরি বাগান মালিকের কাছ থেকে আম সংগ্রহ করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে লাভ করতে পারবেন। এছাড়াও কোন এলাকায় বেশি আম উৎপাদন হয় সে এ এলাকা থেকে আম সংগ্রহ করতে পারেন।
মূলত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁ জেলায় প্রচুর পরিমাণে আম চাষ করা হয়ে থাকে। সেখান থেকে দুই ভাবে আম সংগ্রহ করতে পারেন। প্রথমত, আপনি কৃষকের কাছ থেকে আম বাগান ক্রয় করে নিতে পারেন। অথবা আপনি কৃষককে বলতে পারেন, যে আপনি তার আম বিক্রয় করে দিবেন।এতে মধ্যস্থতাকারী কোন মাধ্যম থাকলো না। এবং বেশি পরিমাণে লাভবান হতে পারবেন।
এছাড়া বিভিন্ন ধরনের আমের আড়ত থেকে আম সংগ্রহ করতে পারেন।এখান থেকে ক্রয়
করে বাজারে বিক্রয় করতে পারেন। অথবা পাইকারিভাবে কিনে আম লোকাল বাজারে বা খুচরা
বিক্রি করতে পারবেন। এছাড়াও বিশ্বস্ত মাধ্যম থেকে আম সংগ্রহ করা যায়। তাই কম
টাকায় আম ব্যবসা শুরু করার উপায় বা মাধ্যমগুলোয় হচ্ছে আম সংগ্রহ করার প্রথম
ধাপ।
অফলাইন বা অনলাইনে আম বিক্রি করার কৌশল
অফলাইনে অর্থাৎ সরাসরি ব্যবসা করতে চাইলে কিছু উপায় অবলম্বন করতে
পারেন। ব্যবসার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী
বিষয়। সেগুলো হল-
- বাগান থেকে সরাসরি আম ক্রয় করে আপনি পাইকারি বা খুচরা বিক্রি করতে পারেন।
- আমের আড়ত থেকে ক্রয় করে আম বাজারে খুচরা বিক্রি করতে পারেন।
- এছাড়াও বিশ্বস্ত কোন লোকের মাধ্যমে ক্রয় করে খুচরা বাজারে কিংবা বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্রয় করতে পারবেন।
এসব কথা মাথায় রেখে বাজারজাত করলে ব্যবসায়ী মুনাফা পেতে পারে বা লাভ করতে পারে। এছাড়াও অনলাইনের মাধ্যমে আম বিক্রয় করা যায়। যেমন শুধু আম কিনলে তো হবে না এর জন্য বাজারজাত করতে হবে। তাই অনলাইনে ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করে সেখানে প্রতিদিন আমের ছবি ও বিজ্ঞাপন দিয়ে আম ক্রয় করার জন্য গ্রাহকদের আগ্রহী করে তুলতে পারেন। আম কেমিক্যাল ও সার বিষ মুক্ত বলে গ্রাহকদের কাছে বিশ্বস্ত হয়ে ওঠা।
আরো পড়ুনঃ ক্যানভা ডিজাইন দিয়ে ইনকাম করার উপায়
এছাড়াও যদি প্যাকেজিং ও পরিবহন পণ্যের মান ঠিক থাকে। যা দেখে অর্ডার করার জন্য গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়বে। আর এভাবে হাজার হাজার মানুষ অনলাইন থেকে ক্রয় বিক্রয় করতে পারে। আপনার যদি সততা, পরিশ্রম এবং সময় এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান থাকে। তাহলে কম টাকায় আম ব্যবসা শুরু করার উপায় গুলো জানতে পারবেন। এছাড়াও কিছু বাজারজাতকরণের সময় কৌশল অবলম্বন করলে বাজারের চাহিদা ও বৃদ্ধি পায়। যেমন-
- আমের কোয়ালিটি বা গুনগত মান অনেক ভাল হতে হবে।
- সঠিক সময়ে পণ্য ডেলিভারি দিতে হবে।
- কিছু প্যাকেজিং এ গ্রাহকদের ছাড় দিতে হবে।
- ডেলিভারি চার্জ না নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
- যে আমের চাহিদা যত বেশি সেই আমের বিজ্ঞাপন দিতে হবে।
আম পরিবহন ও সংরক্ষণের উপায়
গ্রীষ্মকালীন ফল হওয়ায় গরমে বেশি দিন আম ভালো থাকে না। আম অল্পতেই নষ্ট হয়ে
যায়। তাই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে গেলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
যাতে আম নষ্ট না হয়। এক্ষেত্রে আম কার্টুন বা বক্সে ভরে এক জায়গা থেকে আর
এক জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়। এতে আম নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তাছাড়া আম
দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। আম গরমে থাকলে দ্রুত পেকে যাওয়ার ও
সম্ভাবনা থাকে এবং পচে যেতে পারে । তাই কম টাকায় আম ব্যবসা শুরু করার উপায় বা
পন্থা অবলম্বন করা উচিত।
কিভাবে কাস্টমার বা ক্রেতা বাড়ানো যায়
আপনি যদি আপনার কাস্টমারকে সঠিক সময়ে আম দিয়ে থাকেন।এবং খুব ভালো মানের আম দিয়ে থাকেন।তাহলে বারবার আপনার কাছে আম ক্রয় করতে আসবে। এছাড়া যদি পন্যের মানের সাথে দামটাও সহনীয় হয়। তাহলে তো অনেক কাস্টমার বেড়ে যাবে। আর যে এলাকায় যে জাতের আমের চাহিদা বেশি থাকে।
সেসব এলাকায় সে আমগুলো সরবরাহ করতে হবে। জাতভেদে আমের দাম কম বেশি হয়ে থাকে।
তাই সেই দিকটাও খেয়াল রাখতে হবে। এবং ক্রেতার বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। তাহলে
বারবার আম অর্ডার করবে। যদি একটু দাম কম রাখেন। তাহলে তো আপনার ক্রেতা আরো বৃদ্ধি
পাবে। তাইতো কম টাকায় আম ব্যবসা শুরু করার উপায় হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ পদ্ধতি।
ব্যবসায় আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ
প্রত্যেক ব্যবসাতে আয়-ব্যয়ের একটা হিসাব নিকাশ করতে হয়। না হলে ব্যবসায়ী লাভ হলো না লোকসান হল তা বোঝা যায় না। তাই আম ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রত্যেকটার আয় ব্যয়ের হিসাব নিকাশ করবেন খুব ভালোভাবে। যাতে খুব সহজেই বুঝতে পারেন ব্যবসায় লাভ বা লোকসান। তবে আম যেহেতু সুস্বাদু ফল। তাই প্রত্যেকটা মানুষ খুব পছন্দ করে এবং ক্রয় করে। ফলের লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা কম।
আরো পড়ুনঃ ইউটিউব শর্ট ভিডিও থেকে ইনকাম করার উপায়
এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক লাভ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই কম টাকায় আম ব্যবসা শুরু করার উপায় গুলো ভালোভাবে মেনে চলা উচিত এবং হিসাব করে ব্যবসা না করলে ব্যবসায় লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।এবং আপনি যদি হিসাব করে, পরিকল্পনা করে, কঠোর পরিশ্রম করে ব্যবসা করেন। তাহলে লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
নতুন ব্যবসায়ী যেসব ভুল ত্রুটি হয়
নতুন ব্যবসায়ীরা যেসব ভুল ত্রুটি করে থাকে সেগুলো হল-
- ব্যবসা শুরুতে অনেকগুলো আম একসাথে ক্রয় করে নিলেন কিন্তু বিক্রি করতে পারেন না। তখন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে যাবেন।
- আড়তে বেশি আম মজুত রাখা যাবে না।
- বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আম কিনতে হবে। না হলে আম বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তখন মুনাফা কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- বাজারের দামকে মাথায় রেখে পন্য কিনতে হবে না হলে লস হওয়া সম্ভবনা থাকবে।
- খারাপ মানের আম ক্রেতাকে দেওয়া যাবে না। না হলে ক্রেতা আস্তে আস্তে হারিয়ে যাবে।
এছাড়াও বাজার গবেষণা করে আমের ব্যবসা শুরু করা উচিত। আর না হলে খুবই কম টাকায় আম
ব্যবসা শুরু করার উপায় গুলো অবলম্বন করা উচিত।
আম ব্যবসা সফল হওয়ার গোপন টিপস
যেকোনো ব্যবসায় সফল হতে হলে অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য এবং সঠিক পরিকল্পনা
দরকার হয়। তাই আমরা ব্যবসায় সফল হওয়ার টিপস গুলো আলোচনা করব।
- যেকোনো ব্যবসার সর্বপ্রথম সঠিক পরিকল্পনা দরকার হয়।
- ছোট পরিসরে বিনিয়োগ করা দরকার যাতে ব্যবসাটা সঠিকভাবে বুঝতে পারা যায়।
- আমের ভালো জাত নির্বাচন করা দরকার। তাতে বাজারের চাহিদা বোঝা যায়।
- আম ভালো কোয়ালিটি পূর্ণ হতে হবে।
- অফলাইন বা অনলাইন বিষয়ে ভালোভাবে জানতে হবে।
- পন্যের প্রত্যেকদিনের ছবি বা ভিডিও অনলাইনে দিতে হবে বা প্রচার করতে হবে।
- ক্রেতার সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে।
- অধিক বিক্রির জন্য ডিসকাউন্ট ব্যবস্থা করতে হবে।
ব্যতিক্রমী কিছু চিন্তাভাবনা
আম যেহেতু একটা গ্রীষ্মকালীন ফল বা মৌসুমী ফল। তাই আমাদের ভিন্ন চিন্তা ভাবনা ও
করতে হবে। যে কিভাবে ব্যবসা করা যাবে। যেমন-
- কাঁচা আমের আচার তৈরি করে সেই আচার বাজারজাত করতে পারেন।
- কাঁচা আম ফ্রিজে সংরক্ষণও করতে পারেন।
- কাঁচা আম দিয়ে আমচুর তৈরি করতে পারেন।
- পাকা আমের আমসত্ত্ব তৈরি করে বাজারে বাজারজাত করতে পারেন।
এছাড়াও কাঁচা এবং পাকা আম ফ্রিজের সংরক্ষণ করে সেটা ছোট পরিসরে জুসের ব্যবসা কারতে পারেন।
লেখক এর মন্তব্য
মূলত কম মূলধনে আম ব্যবসা শুরু করা একটি দারুন সুযোগ নতুন উদ্যোক্তাদের।যদি সঠিকভাবে পরিকল্পনা করেন আর মার্কেটিং ভালোভাবে করতে পারেন তাহলে সহজেই এ ব্যবসায়ী লাভ করতে পারবেন। তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসে বসে বিক্রয় করতে পারবেন। তাই যারা উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন।
তাদের জন্য কম টাকায় আম ব্যবসা শুরু করার উপায় একটা বাস্তবসম্মত এবং লাভজনক
ব্যবসা হতে পারে। এ আর্টিকেল এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাথে থাকার জন্য আপনাকে
অসংখ্য ধন্যবাদ।এরকম নিত্য নতুন তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি ভিজিট
করুন।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url