কুরবানি ঈদে মাংস বিতরণের সঠিক পদ্ধতি

আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী কমবেশি সবাই কুরবানী করে থাকি? তবে কোরবানির মাংস বিতরণ সম্পর্কে কি সঠিকভাবে আমরা জানি?তবে চলুন,কোরবানি ঈদে মাংস বিতরণের সঠিক পদ্ধতি গুলো বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।

কুরবানি-ঈদে-মাংস-বিতরণের-সঠিক-পদ্ধতি

 কুরবানীর ঈদ শুধু পশু জবাই করা ঈদ নয়। বরং এর মাধ্যমে মানুষকে ত্যাগ, সহানুভূতি, সমাজের গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শিক্ষা দিয়ে থাকে। আসুন, এই আর্টিকেলে আমরা কোরবানি ঈদে মাংস বিতরণের সঠিক পদ্ধতি গুলো বিস্তারিতভাবে জেনে নিব।

সূচিপত্রঃ কোরবানির মাংস বিতরণের সঠিক পদ্ধতি গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো

কুরবানী ঈদে মাংস বিতরণের সঠিক পদ্ধতি

কুরবানির মাংস বিতরণ নিয়ে অনেক জনের অনেক ধরনের মতামত সমাজে প্রচলিত রয়েছে। তবে আমরা সঠিকভাবে জেনে নিব, কুরবানি ঈদ কোন উৎসবের ঈদ নয়।বরং এটা একটা ইবাদতের মাধ্যম। এর মাধ্যমে আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। এবং সমাজের আত্মীয়-স্বজন পাড়া প্রতিবেশী এবং গরিব দুখীদের সঙ্গে সোহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার একটি অন্যতম মাধ্যম। তবে চলুন আমরা কুরবানী ঈদে মাংস বিতরণের সঠিক পদ্ধতি গুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিব। মূলত কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করার উত্তম বা মুস্তাহাব। যথা- 

  1. এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য যা নিজেদের খাওয়ার জন্য রাখা হয়।
  2. আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের হাদিয়া দেওয়ার জন্য।
  3. গরিব অসহায় ব্যক্তিদের সাদকা হিসেবে বিতরণ করার জন্য। 

এভাবে মাংস বিতরণ করা হচ্ছে উত্তম। আবার অনেকে মনে, করেন মাংস তিন ভাগে ভাগ করা ফরজ। কিন্তু এটি বাধ্যতামূলক নয়। কেউ ইচ্ছা করলে পুরোটাই নিজের পরিবারের জন্য রেখে দিতে পারে। আবার কেউ যদি চাইলে পুরোটাই দান করে দিতে পারে। কোরবানির মাংস কোন অমুসলিমদের দেওয়া সম্পূর্ণরূপে জায়েজ আছে।এটি মানবতার একটি লক্ষণ মাত্র। তবে প্রয়োজন হলে গরিবদের বা আত্মীয়-স্বজনকে বেশি দিতে পারে।আবার আশেপাশে গরীব দুঃখী বেশী হলে নিজের অংশ থেকে দেওয়া অতি উত্তম কাজ হিসাবে গণ্য করা হয়। এতে সামাজিক মূল্যবোধ বা ভাতৃত্ববোধের ভারসাম্য বজায় থাকে।

 কুরবানীর মূল উদ্দেশ্য কি

কোরবানির মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা। আল্লাহর কাছে পশুর রক্ত বা মাংস যায় না।  বরং তার কাছে পৌঁছাই শুধুমাত্র আমাদের তাকওয়াটুকুই। তাই হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর মহান ত্যাগের স্মরণে মুসলমানেরা কোরবানি আদায় করে আসছে বছরের পর বছর ধরে।

আয়েশা (রাঃ)থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, ' কুরবানির দিন পশু কোরবানির চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় আর কোন আমল নেই। কেয়ামতের দিন জবাই করা পশুকে তার সিং ও  খুর সহ হাজির করা হবে। কোরবানি জন্তুর রক্ত জমিনে পড়ার আগেই তা আল্লাহর কাছে কবুল হয়ে যায়। তোমরা খোলা মনে ও সন্তুষ্টচিত্তে কোরবানি করো'। (মিশকাত শরীফ,খন্ড-এক, পৃষ্ঠা-১২৮)।

কুরবানী মূলত কোন উৎসব নয়, এটির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টের লাভ করা ও আল্লাহর প্রতি ভয় জাগ্রত করা। লৌকিকতা বা কুরবানী না দিলে মানুষ কি বলবে বা গোস্ত খাওয়ার নিয়তে দিলে আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। এছাড়াও আমাদের সতর্ক হওয়ার জন্য(সাঃ) বলেছেন 'যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে পশু জবাই করে আল্লাহ তার উপর লানত দেন'।(সহিহ মুসলিম শরীফ)

কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য সঠিকভাবে কুরবানী করা এবং কোরবানি ঈদে মাংস বিতরণের সঠিক পদ্ধতি মেনে চলা। আল্লাহ আমাদেরকে কোরআন ও হাদিসের আলোকে কুরবানী করার তৌফিক দান করুন।

কুরবানির মাংস বিতরণ করার গুরুত্ব 

কুরবানি ঈদে মাংস বিতরণের সঠিক পদ্ধতি গুলো মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে মাংস বিতরণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি গোস্ত খাওয়া বা বিতরণ করা নয়। এর মাধ্যমে আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জন ও ত্যাগ স্বীকার এবং সামাজিক সৌন্দর্য লক্ষ্য করা যায়। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন,' অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার কর এবং দুস্থ অভাবগ্রস্থদেরকে আহার করাও'।(সূরা আল-হজ আয়াত ২৮)  

আরো পড়ুনঃ ইউটিউব র্শট ভিডিও থেকে ইনকাম

সমাজের সামর্থ্যবানদের সাথে পিছিয়ে পড়া মানুষদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়। মাংস বিতরণের মাধ্যমে ধনী-গরিবের বৈষম্য কমে যায়। ফলে সমাজে সহানুভূতি ও পারস্পরের সহযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়। মাংস বিতরণের মাধ্যমে পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। এছাড়াও অমুসলিম প্রতিবেশী বা দরিদ্রের মাংস দেওয়া সম্পন্ন জায়েজ আছে। এতে সামাজিকতা ও মানবিকতা সুস্পষ্ট উল্লেখ পায়।   

কুরবানির মাংস কাদের মাঝে বিতরণ করতে হবে

কোরবানির মাংস নিজের পরিবারের জন্য, অসহায় গরিবদের জন্য, পাশাপাশি প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনদের জন্য বিতরণ করা হয়ে থাকে। এমনকি অমুসলিম গরিব প্রতিবেশীদেরও মাংস বিতরণ করা জায়েজ আছে। এতে পারস্পারিক সৌন্দর্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যেহেতু ঈদুল আযহার একটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানি করা। আর কোরবানিতে আল্লাহ নৈকট্য, লাভ করা যায়। এবং আরেক উপকার হলো কুরবানীতে মাংস নিজেও খেতে পারা যায় এবং অন্যকে উপহার হিসাবে দেওয়াও যায়।

এ প্রসঙ্গে হাদিস শরীফে এসেছে আল্লাহ বলেছেন,' তোমরা কোরবানির মাংস যে পরিমাণ ইচ্ছে খাও, অন্যদেরকে খাওয়াও এবং যতটুকু ইচ্ছা জমা করে রাখো'।(সুনানে তিরমিজি হাদিস ১৫১০)।

মান্নতের কুরবানির মাংস মানতকারি পরিবার খেতে পারবে না। পুরোটাই দান করে দিতে হবে। অর্থাৎ যারা যাকাত গ্রহণ করে, শুধু তাদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ধনীদের দেওয়া যাবে না। কুরবানি ঈদে মাংস বিতরণের সঠিক পদ্ধতি মেনে আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশী ও গরিবদের খোঁজ খবর নেওয়া ভালো হয়। এতে পারিবারিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে অনেকে এত পরিমাণ নিজের জন্য রাখে যা প্রকৃত অসহায় মানুষের কিছুই পায় না।

কুরবানি-ঈদে-মাংস-বিতরণের-সঠিক-পদ্ধতি

কুরবানিতে পাড়া-প্রতিবেশী আত্মীয়-স্বজনদের কতটুকু অধিকার 

ইসলামে প্রতিবেশীর হক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বতার সাথে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই কোরবানির মাংস পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনের কাছে বিতরণ করার জন্য ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী গরিবদের অগ্রাধিকার দেওয়া ও পাড়া-প্রতিবেশীদের  বাড়িতে কুরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়া উচিত। আর কুরবানীর গোশতের মধ্যে অন্যতম হকদার হচ্ছে আত্মীয়-স্বজন। আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য এবং পাড়া প্রতিবেশীদের হাদিয়া  দেওয়া উচিত। তবে নিকট আত্মীয় হলে এদের অধিকার সর্বপ্রথম।

প্রতিবেশীর প্রতিও ইসলামে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রতিবেশী ধনী গরিব মুসলিম বা অমুসলিম হোক না কেন কোরবানির মাংসতে তাদের অধিকার আছে।অভাবে প্রতিবেশীদের ক্ষুদার্থ রেখে নিজেরা সব গোস্ত রেখে দেওয়া এটা ইসলামের নির্দেশনা নয়। অমুসলিম প্রতিবেশীকে গোস্ত দেওয়া উত্তম আচরণ। তাই কুরবানি ঈদে মাংস বিতরণের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হলে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর কথা মনে রাখতে হবে। 

গরিব ও অসহায় মানুষের কতটুকু অধিকার

কুরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির অর্জন করা। এবং সমাজের গরিব ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। এতে ইসলাম ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য দূর করে। নিঃস্ব, গরিব ও অসহায় ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। ইসলামের মতে এক ভাগ মাংস গরিবও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা মুস্তাহাব।আবার যদি কোরবানি দাতার পরিবার বড় হয় তবে পুরো মাংস রেখে দিলেও অসুবিধা নেই।

তবে সামর্থ্য থাকলে কিছু অংশ গরিবদের দেওয়া উচিত। যা বেশি সোয়াবের কাজ হবে, যেখানে অনেক পরিবার আছে যারা সারা বছর ভালো খেতে পারেনা। কিন্তু কুরবানীর সময় তাদের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। আর এই হাসি ফোঁটাই হল মানবিকতার লক্ষণ মাত্র।এজন্য কুরবানি ঈদে মাংস বিতরণের সঠিক পদ্ধতি মেনে চলা উত্তম।

মাংস বিতরণের জন্য স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা 

কুরবানির স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা উচিত। এক্ষেত্রে যে ব্যক্তির মাংস কাটার কাজে যুক্ত হবে। তাকে প্রথমে সাবান দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে নিতে হবে। মাক্স পড়ে এবং পরিষ্কার অ্যাপ্রোন পড়তে হবে। মাংস কাটার জায়গা ভালো করে জীবাণুন নাশক দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। যেখানে সেখানে ময়লা বা রক্ত না ফেলে একটা নির্দিষ্ট গর্ত বা ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। মাংস খালি হাতে বিতরণ করা উচিত নয়।

আরো পড়ুনঃ লিচুর উপকারিতা ও অপকারিতা

মাংস নিরাপদ ভাবে বিতরণ করতে হবে। মাংস নেওয়ার জন্য সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড় করে একে একে তা বিতরণ করতে হবে। মাংস প্যাকেটিং করার ক্ষেত্রে পলিথিন ব্যবহার করা ঠিক নয়। প্যাকেটিং করার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত প্যাকেট ব্যবহার করা উচিত। মাংস খালি হাতে বিতরণ করা ঠিক না, হাতে গ্লোভস পরে মাংস বিতরণ করা উচিত। এবং কোরবানি হওয়ার সাথে সাথেই মাংস বিতরণ করা উচিত। যাতে মাংসের কোনরকম সমস্যা সৃষ্টি না হয়।

মাংস বিতরণের ক্ষেত্রে যেসব ভুল হয়

কুরবানির মাংস বিতরণের সাধারণ যে ভুলগুলো হয়ে থাকে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভুল হল, মান্নতের মাংস আত্মীয়-স্বজন বা পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া। সঠিকভাবে মাংস ভাগ না করে আবার কেউ অতিরিক্ত নিজের জন্য রেখে দেন। আবার কেউ গরিবদের কথা মনে রাখেনা। আবার কেউ অস্বাস্থ্যকর ভাবে মাংস বিতরণ করে থাকে। যাতে রোগ জীবাণু ছাড়া আশঙ্কা রয়েছে। মাংস অনেকে  দেরি করে বিতরণ করে ফলে মাংস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাই দ্রুত মাংস বিতরণ করতে হবে। কুরবানি যদি মান্নতের হয়ে থাকে, তবে শুধু গরিব দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। যারা যাকাত গ্রহণ করে থাকে, তাদের মাঝে এই মাংস বিতরণ করতে হবে। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব বা নিজের পরিবারের জন্য ভুলেও দিতে পারবেন না। এ ভুল করা যাবে না, এমনকি মাংস দেওয়া যাবে না। একাধিক ব্যক্তি মিলে গরু বা উট কুরবানি করলে আন্দাজে বা চোখের দেখায় ভাগ করা যাবে না। অবশ্যই ওজন করে বা সমপরিমাণের সবার মাঝে বন্টন করতে হবে।

আবার অনেকে অতিরিক্ত লোভের কারণে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাংস জমিয়ে রাখেন।এবং গরিব, অসহায়, প্রতিবেশীদের তা থেকে বঞ্চিত রাখেন। এই ভুলগুলো থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কুরবানি ঈদে মাংস বিতরণের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠুন। 

কুরবানি-ঈদে-মাংস-বিতরণের-সঠিক-পদ্ধতি

মাংস সংরক্ষণ করার সঠিক নিয়ম

কুরবানী করার পর সঠিক তাপমাত্রা ও বায়ুরোধী পাত্রে মাংস সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরী বিষয়। কাঁচা মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করার কিছু নিয়ম আছে। সেগুলো-

  • মাংস প্রথমে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে তারপর পানি ও রক্ত ঝরিয়ে ফেলুন। 
  • পরিবারে যতটুকু মাংস প্রয়োজন ততটুকুই আলাদা আলাদা করে প্যাকেট করুন। যাতে বারবার মাংস ডিফ্রোস্ট করতে না হয়।
  • জিপলক বা এয়ারটাইট বক্স ব্যবহার করুন।  যাতে বাতাস না ঢুকে সে দিকে খেয়াল রাখুন, প্যাকেটের লেভেল দিয়ে তারিখ লিখে রাখলে কোনটা আগের মাংস সেটা চিনতে পারবেন। 
  • দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য ডিপ ফ্রিজে রাখা ভালো। 
  • মাংস ঠান্ডা করার পর এয়ারটাইট পাত্রে বা কাচের জােরে করে ফ্রিজে রাখুন। এতে দুই তিন দিন ভালো থাকবে।
  • রান্না করা মাংস অনেক দিন সংরক্ষণ করতে চাইলে তা মাংসের পানি পুরোপুরি শুকিয়ে তেলের পরিমাণ বাড়িয়ে ভেজে ডিপ ফ্রিজে রাখতে হবে।
  • রান্না করা মাংস প্রাকৃতিকভাবে রাখতে চাইলে চর্বি ও পানি সম্পন্ন আলাদা করে, রোদে ভালো করে শুকিয়ে নিতে পারেন, মাঝে মাঝে হালকা গরম তেলে ভেজেও রাখা যায়।
  • মাংস চর্বি দিয়ে জাল বা ভেজে, মাংসের ভিতরে বাতাস ও ব্যাকটেরিয়া ঢুকতে পারে না। বরং নিরাপদ ভাবে সংরক্ষণ করাও এর একটি অংশ।

অনলাইনে মাংস বিতরণের পদ্ধতি

আধুনিক সময়ে অনলাইনে মাংস বিতরণ করার পদ্ধতি হচ্ছে জনপ্রিয় মাধ্যম। যা বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অনলাইনের মাধ্যমে পশু কেনা, জবাই করা, সেই মাংস প্যাকেটজাত করে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছানো এবং দুস্থদের মাঝে বিতরণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে থাকে।অনলাইনের মাধ্যমে যে কার্যপ্রণালীগুলো করে থাকে সেগুলো হচ্ছে-

  1. অনলাইনের মাধ্যমে ক্রেতারা পশু বুকিং করে থাকে।
  2. প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কোরবানির সম্পন্ন করে এবং মাংস পরিষ্কার করে প্যাকেট করে থাকে।
  3. এই মাংস গ্রাহকের নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছানো অথবা তাদের নিয়ে যেতে টিম সরাসরি গরীব দুঃস্থ ও অসহায়দের মাঝে বিতরণ করে থাকে।

জনপ্রিয় সেবা বা প্ল্যাটফর্ম গুলো হচ্ছে-

বেঙ্গল মিটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো প্রি-অর্ডার নিয়ে প্রিমিয়াম কোরবানি এবং মাংস বাসায় পৌঁছানোর সেবা দিয়ে থাকে।এছাড়া এস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন এবং মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর মত সংস্থা গুলো 'সবার জন্য কোরবানি' বা এই ধরনের প্রজেক্ট এর মাধ্যমে দেশব্যাপী সুবিধা বঞ্চিতদের কাছে মাংস পৌছে দেওয়া অনলাইন প্রজেক্ট পরিচালনা করে থাকে।এটা অনেক ধরনের সুবিধা ও পাওয়া যায়। হাটে যাওয়া লাগে না। নিরাপদ স্বাস্থ্যসম্মত কোরবানি দেওয়া যায় এবং কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সঠিক মানুষদের কাছে কোরবানির মাংস পৌঁছানো যায়।

তবে এইসবের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে, প্রতিষ্ঠানটি সঠিকভাবে কোরবানি ঈদে মাংস বিতরণের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করছে কিনা।কুরবানী মানুষকে ত্যাগ ও সহমর্মিতার শিক্ষা দিয়ে থাকে। এখানে সবাইকে একসাথে আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ করে দেয়।যেমন কুরবানী আমাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করতে শিক্ষা দিয়ে থাকে। এবং কোরবানির মাংসের মাধ্যমে সমাজের বৈষম্য দূর করে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে ওঠে। এবং এর মাধ্যমে পরোপকারিতা ও দানশীলতা শিক্ষা দিয়ে থাকে।

আরো পড়ুনঃ বেলের উপকারিতা ও অপকারিতা 

কোরবানির মানবিক শিক্ষা হল নিজের ভিতরে লোভ, লালসা, হিংসা, ক্রোধ ও অহংকারকে কুরবানী দেওয়া। এর মাধ্যমে মানুষ প্রকৃত সৎ, বিনয়ী ও আদর্শ চরিত্রের হয়ে ওঠে। কোরবানির মাধ্যমে সমাজের পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভাতৃত্ববোধ বাড়ে যা সব সময় মানুষকে একত্রিত করে। ফলে সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। তাই কোরবানি ঈদে মাংস বিতরণের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সমাজের বৈষম্য দূর করতে হবে এবং মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। 

বিদেশে অবস্থানরত ও অমৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি 

বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির উপর কোরবানি যদি ওয়াজিব হয়। তাহলে নিজ দায়িত্বে সেখান থেকে কোরবানি করতে পারেন অথবা নিজের জন্মস্থান বা আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে কোরবানি সম্পন্ন করতে পারেন সহীহশুদ্ধ এবং জায়েজ হবে।গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল ও নিয়মাবলীঃ

  • প্রবাসে নিজে কুরবানী দেওয়া সম্ভব হলে নিজে অথবা দেশে থাকা আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।তবে বলতে হবে যে এটি অমুকের কোরবানি।
  • দেশে বা পছন্দের স্থানে পশু কেনার জন্য পূর্বেই অর্থ পাঠাতে হবে বা ব্যবস্থা করতে হবে।
  • সেই দেশের ঈদের নামাজের পর কোরবানির পশু জবাই করতে হবে। 

বিদেশের অবস্থানরত ব্যক্তি চাইলে নিজের কোরবানির অংশ নিজে না খেয়ে পুরোটাই নিজ দেশের বা অন্য কোন স্থানে দরিদ্র এবং এতিমদের মাঝে বন্টন করতে পারবে যা অত্যন্ত  নেকির সওয়াবের কাজ। প্রবাসীরা নিজ দেশের গরিব দুঃখীদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে কুরবানী করলে দিগুন ফায়দা বা নেকি অর্জিত হয়।

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ইসলামের শরীয়ত অনুযায়ী কোরবানি জায়েজ আছে। এবং মৃত্যু ব্যক্তির কাছে সওয়াব পৌঁছায়। আপনি নিজে বা পরিবারের কোরবানির সময় চাইলে মৃত পিতা মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের নামে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।কোন মৃত ব্যক্তি যদি কোরবানি করার জন্য ওসিয়ত করে থাকেন। তাহলে তার রেখে যাওয়া সম্পদ দিয়েই কোরবানি করা ওয়াজিব।

 সাধারণত কোরবানির নিয়ম অনুযায়ী আপনি নিজেও আপনার পরিবারের জন্য কোরবানির গোশত খেতে পারবেন। তবে যদি মৃত ব্যক্তি ওসিয়াত করে যায় বা তবে তার রেখে যাওয়া সম্পদে কোরবানি দিতে হবে। এক্ষেত্রে সমস্ত গোস্ত বা চামড়া গরিব মিসকিনদের মাঝে দান করে দেওয়া আবশ্যক। পরিবারের কেউ তা খেতে পারবে না। তাই পুরোটাই ব্যক্তির উদ্দেশ্যে দান করা উত্তম।

কোরবানির মূল ব্যবস্থাপনা হবে পরিবেশ বান্ধব

কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরী বিষয়। যেখানে সেখানে বর্জ্য ফেললে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। তাই পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন করে রাখা ইসলামের একটি অংশ হিসেবে পড়ে। কুরবানি ঈদে মাংস বিতরণের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করার পাশাপাশি বর্জ্য দ্রুত গর্তে বা ডাস্টবিনে ফেলা উচিত।

শেষ কথা

কুরবানী ঈদ মানে মুসলমানদের জন্য ত্যাগ, সহানুভূতি, ভালোবাসা ও মানবতার এক অন্যরকম শিক্ষা। শুধু পশু জবাই নয় বরং ইসলামী নিয়ম অনুসারে কুরবানীর মাংস বিতরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

এ আর্টিকেলে আলোচনা করা হলো কুরবানি ঈদে মাংস বিতরণের সঠিক পদ্ধতি মেনে চললে কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্যে সফল হবে। এতে সবার সাথে সৌহার্দ্য বজায় থাকবে। এতক্ষণ এই আর্টিকেলের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।এই ধরনের তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইটের নিয়মিত ভিজিট করুন।








এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url